আজ আর একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নন্দলাল বসু ভারতীয় শিল্পের এক পুরোধা পুরুষ। অবনীন্দ্রনাথের এই প্রিয় ছাত্র ১৯২০ সালে যখন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্যে আসেন, ‘রতন’ চিনতে গুরুদেবের বিলম্ব হয়নি। দু-বছরের মধ্যেই তাঁকে কলাভবনের অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। আটপৌরে মাটির মানুষ, প্রবল স্বদেশিয়ানায় আপ্লুত নন্দলাল শিক্ষক হিসেবেও হয়ে উঠেছিলেন অনন্যসাধারণ। তাঁর নক্ষত্রপ্রতিম ছাত্রদের স্মৃতিচারণে সেকথা বার বার উঠে এসেছে। অন্যত্র অধিকতর সুযোগ-সুবিধার আহ্বান তাঁকে কলাভবন থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। দেশে বিদেশে অসংখ্য গুণগ্রাহী ছিল নন্দলালের, স্বয়ং মহাত্মা গান্ধী তাঁদেরই একজন। হরিপুরা কংগ্রেসের শিল্প-সজ্জার সামগ্রিক দায়িত্বপ্রাপ্তি তার প্রমাণ। আপাদমস্তক প্রকৃতি-প্রেমিক নন্দলাল বসুর চুরাশি বছরের সৃষ্টিশীল জীবনের কাঠামো অমিত মণ্ডল অতীব দক্ষতায় এবং শ্রদ্ধায় বিধৃত করেছেন নাতিদীর্ঘ এই গ্রন্থে।