বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি প্রায় হাজার বছরের। বাংলার মাটি, জল, বায়ু ও ফল থেকে যে বাঙালির জীবন গড়ে উঠেছে, তাকেই ভূতাপেক্ষ বা রেট্রোস্পেক্টিভে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে এই বইতে। চেষ্টা করা হয়েছে বাঙালির জাতি ও সংস্কৃতির শেকড় খোঁজার। কাউন্টারকালচার বাদে বাকি লেখায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে সেগুলো বিভিন্ন ব্যতিক্রমী বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বাঙালির সংস্কৃতি ও সাহিত্য নিয়ে লেখা। এই বইতে চন্দননগরের ইতর সংস্কৃতির কথা যেমন আছে, তেমনই আছে একদা বাঙালির পায়রা পোষার কথা কিংবা কলকাতার মাস্তানদের কথা। আছে রামকৃষ্ণ, কাঙাল হরিনাথ, মানদা দেবী কি মানিক, নজরুল বা হালের নবারুণ। কয়েকটি তত জনপ্রিয় বই নিয়ে কথা আছে, আছে অজয় মুখোপাধ্যায়, কমলকুমার বা শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথাও। এছাড়াও এই বইতে এমন চারজনের কথা রয়েছে যাঁরা বাঙালি নয়। ১. গান্ধি—ওঁর সঙ্গে বাংলার গভীর যোগ ছিল। রবীন্দ্রনাথ, চিত্তরঞ্জন, সুভাষ—এই তিন বাঙালি ব্যক্তিত্ব গান্ধিকে আকর্ষণ করেছিল। ২. মান্টো—বাংলা সাহিত্যের মনযোগী পাঠকদের কাছে উনি জনপ্রিয়। ৩. গিন্সবার্গ—একজন বাঙালি লেখক যিনি ওঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখেছেন এবং তাঁর সিঙ্গে গিন্সবার্গের বন্ধুত্ব হয়েছিল, যখন তিনি কলকাতায় এসেছিলেন। ৪. ইয়েভতুশেঙ্কো—এই রাশিয়ান কবিকে চিনেছি এক বাঙালির হাত ধরে।
সুরজিৎ সেন: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সামান্য। পেশা—স্বাধীন গবেষক ও সেই সূত্রে নানা ধরণের অস্থায়ী কাজ। একটি প্রকাশনা সংস্থা ও একটি ইন্ডিফিল্ম প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। নেশা—বিশ্বের, ভারতের ও বাংলার যে-কোনও কাউন্টারকালচারের সন্ধান করা, আন্ডারগ্রাউন্ড সিনেমা ও সাহিত্যের খোঁজ রাখা। জাপানি গ্রাফিক নভেল পড়া ও জাপানি ভয়ংকর সিনেমা দেখা। ঝোঁক—স্পিরিচুয়াল অ্যানার্কিজমের প্রতি।